‘দেবারা: পার্ট ওয়ান’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘চুট্টামাল্লে’র দৃশ্য ব্যবহার করে জাহ্নবী কাপুরকে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি বিকৃত এআই ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে অভিনেত্রীর চেহারা ও শরীরের দৃশ্য পরিবর্তন করে আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাহ্নবী কাপুর ও তাঁর সহশিল্পী জুনিয়র এনটিআর। ভিডিওটি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জুনিয়র এনটিআর। পরে তাঁর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বিজয় দেবরাকোন্ডা ও চিরঞ্জীবী।

যে গান থেকে বিতর্কের শুরু

২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দেবারা: পার্ট ওয়ান’-এর অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘চুট্টামাল্লে’। জুনিয়র এনটিআর ও জাহ্নবী কাপুর অভিনীত গানটি মুক্তির পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। অনিরুদ্ধ রবিচন্দর সংগীত পরিচালনা করেন, গানটি গেয়েছেন শিলপা রাও এবং কোরিওগ্রাফি করেছেন বোসকো মার্টিস।

মূল গানে সমুদ্রসৈকত ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের আবহে দুই অভিনয়শিল্পীর রোমান্টিক মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছিল। তেলুগুর পাশাপাশি গানটির হিন্দি, তামিল, কন্নড় ও মালয়ালম সংস্করণও প্রকাশিত হয়।

পরে মূল গানের কিছু দৃশ্য ব্যবহার করে এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয় বিকৃত ভিডিও। নতুন ভিডিওর দৃশ্যগুলোর সঙ্গে মূল গানের কোনো সম্পর্ক নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

‘কাউকে ছাড়ব না’: জুনিয়র এনটিআর

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুনিয়র এনটিআর। ভিডিওটিকে তিনি ‘জঘন্য, অসুস্থ ও নির্লজ্জ’ বলে মন্তব্য করেন। শুধু ভিডিওটি তৈরিকারী নয়, যারা এটি ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

অভিনেতা বলেন, এআই ব্যবহার করে একজন নারীকে এভাবে অপমান করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। একই সঙ্গে দর্শকদের এ ধরনের ভিডিও না দেখা, শেয়ার না করা এবং এর প্রচারে কোনোভাবে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোর প্রতি কঠোর আইন ও বিধিনিষেধ তৈরির আহ্বানও জানিয়েছেন জুনিয়র এনটিআর।

জাহ্নবীরও আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা

ঘটনার পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জাহ্নবী কাপুর। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় তিনি বিচলিত বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কাউকে এ ধরনের ভিডিও তৈরি, শেয়ার বা প্রচার না করার অনুরোধ করেছেন অভিনেত্রী।

জাহ্নবীর মতে, এটি এআই প্রযুক্তির স্পষ্ট অপব্যবহার। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

‘ডিজিটাল যৌন নিপীড়ন’ বললেন বিজয়

জুনিয়র এনটিআরের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন অভিনেতা বিজয় দেবরাকোন্ডা। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ অন্যদের জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

সম্মতি ছাড়া এআইয়ের মাধ্যমে কারও ছবি বা ভিডিও বিকৃত করে উপস্থাপনের ঘটনাকে বিজয় ‘ডিজিটাল যৌন নিপীড়ন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

চিরঞ্জীবীর উদ্বেগ

ঘটনাটি নিয়ে সরব হয়েছেন তেলুগু তারকা চিরঞ্জীবীও। একজন নারীকে অবমাননাকরভাবে উপস্থাপনের জন্য এআই ব্যবহারের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে বিচলিত বলে জানিয়েছেন।

চিরঞ্জীবীর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিষ্ঠুর, লজ্জাজনক ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাধারণ মানুষকে ভিডিওটি না দেখা, শেয়ার না করা এবং এর প্রচারে যুক্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে বিষয়টি তেলুগু ফিল্ম চেম্বার ও প্রযোজক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানিয়েছেন চিরঞ্জীবী। ফলে ব্যক্তিগত প্রতিবাদের পাশাপাশি চলচ্চিত্রশিল্পের পক্ষ থেকেও এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।