পর্দায় অভিনীত কোনো চরিত্র বা দৃশ্য অনেক সময় অভিনেতার ব্যক্তিজীবনেও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের পর পরিবার, বন্ধু কিংবা সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন একাধিক তারকা।

সম্প্রতি মারিয়া শারাপোভার অনুষ্ঠান ‘প্রিটি টাফ’-এ অতিথি হয়ে ‘শেমলেস’ সিরিজের অভিনেত্রী এমি রমসও জানিয়েছেন এমন অভিজ্ঞতার কথা। তাঁর পাশাপাশি আরও কয়েকজন তারকা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পর্দার ঘনিষ্ঠ দৃশ্য কীভাবে তাদের ব্যক্তিজীবনে প্রভাব ফেলেছিল।

জোডি কোমার

‘কিলিং ইভ’ অভিনেত্রী জোডি কোমার ২০১৭ সালের ‘দ্য হোয়াইট প্রিন্সেস’ সিরিজে বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করেন। এসব দৃশ্য তাঁর পরিবারের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি করেছিল।

ডব্লিউ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোমার জানান, তাঁর বাবা এসব দৃশ্য দেখে অস্বস্তি বোধ করতেন। বিষয়টি নিয়ে বাবার সঙ্গে কথা বলাও তাঁর জন্য সহজ ছিল না।

কোমারের মতে, চিত্রনাট্যে এমন দৃশ্য থাকলে একজন অভিনেতার সামনে অনেক সময় সীমিত বিকল্প থাকে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তাঁর অস্বস্তি কিছুটা কমেছে বলেও জানান তিনি।

লিনা ডানাম

‘গার্লস’ সিরিজে লিনা ডানামের চরিত্রে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ছিল। সিরিজটি প্রচারের সময় এসব দৃশ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরিবারের প্রতিক্রিয়াও ছিল ভিন্নধর্মী।

ডানামের বাবা শিল্পী হওয়ায় এ ধরনের দৃশ্য নিয়ে তাঁর তেমন অস্বস্তি ছিল না। তবে মা লরি সিমন্সের জন্য বিষয়টি সহজ ছিল না। ডানাম জানান, মেয়েকে পর্দায় এমন দৃশ্যে দেখা একজন মা হিসেবে তাঁর কাছে অস্বস্তিকর ছিল।

তবে সিরিজটির অন্যান্য দিক তিনি পছন্দ করতেন বলেও জানিয়েছেন সিমন্স।

কিট হ্যারিংটন

‘গেম অব থ্রোনস’-এর জন স্নো চরিত্রের জন্য পরিচিত কিট হ্যারিংটন ‘ইন্ডাস্ট্রি’ সিরিজেও অভিনয় করেছেন। সেখানে তাঁর চরিত্রে বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ছিল।

‘অ্যাক্টরস অন অ্যাক্টরস’ অনুষ্ঠানে পিটার ডিংকলেজের সঙ্গে আলাপকালে হ্যারিংটন এসব দৃশ্য নিয়ে রসিকতা করেন। তিনি বলেন, যত বেশি এমন দৃশ্যে অভিনয় করছেন, ততই মনে হচ্ছে এবার হয়তো থামা উচিত।

এর অন্যতম কারণ তাঁর সন্তান। অভিনেতার আশঙ্কা, সন্তানরা বড় হয়ে একদিন তাঁকে পর্দায় এমন দৃশ্যে অভিনয় করার বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারে।

মার্গো রবি

২০১৩ সালের ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’ মার্গো রবির ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা। ছবিটিতে তাঁর অভিনীত কিছু দৃশ্য নিয়ে পরিবারের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে শুরু থেকেই চিন্তিত ছিলেন অভিনেত্রী।

ভ্যানিটি ফেয়ারে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রবি জানান, শুরুতে পরিবারের কাছে ছবির এসব দৃশ্যের বিষয়টি গোপন করেছিলেন। পরে বিষয়টি জানালেও তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে দৃশ্যগুলোতে প্রযুক্তিগতভাবে অন্যভাবে কাজ করা হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে একধরনের সমঝোতায় পৌঁছান তিনি। সিনেমাটি দেখার আগে তাঁদের বইটি পড়ে নেওয়ার শর্ত দিয়েছিলেন রবি।

এমি রমস

‘শেমলেস’ সিরিজে ফিওনা গ্যালাগারের চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান এমি রমস। সম্প্রতি মারিয়া শারাপোভার ‘প্রিটি টাফ’ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, সিরিজটির কিছু দৃশ্য তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করেছিল।

রমসের ভাষ্য, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো কয়েকজন আগে থেকেই পর্দায় তাঁকে দেখার কারণে তাঁর সম্পর্কে কিছু ধারণা তৈরি করে নিয়েছিলেন। ফলে অভিনয়ের চরিত্র ও ব্যক্তিজীবনের মানুষটিকে এক করে দেখার প্রবণতা ছিল কারও কারও মধ্যে।

একজন সাবেক পরিচিতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং সম্পর্কটি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন।

রমসের প্রশ্ন ছিল, একজন অভিনেতার পর্দার চরিত্র বা দৃশ্য কীভাবে তাঁর বাস্তব জীবনের পরিচয়ের সঙ্গে এক করে দেখা যায়?

হান্টার শ্যাফার

‘ইউফোরিয়া’ তারকা হান্টার শ্যাফারের ক্ষেত্রেও পারিবারিক অস্বস্তির বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁর মা-বাবা দুজনই যাজক। ২০২৪ সালে ‘কল হার ড্যাডি’ পডকাস্টে শ্যাফার জানান, সিরিজের প্রথম পর্বে তাঁর চরিত্রের কিছু প্রাপ্তবয়স্ক ও সহিংস দৃশ্য নিয়ে পরিবারকে জানাতে তাঁর অস্বস্তি হয়েছিল।

শুধু মা-বাবাই নয়, তাঁদের গির্জার পরিচিতরাও একদিন টেলিভিশনে তাঁকে ওই চরিত্রে দেখতে পারেন—এ বিষয়টিও তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছিল।

শ্যাফারের মতে, তাঁর বাবা-মায়ের গির্জার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে উদার হলেও বিষয়টি তাঁদের জন্য সহজ ছিল না। নিজের অভিনয়ের কারণে মা-বাবাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হওয়ায় তাঁর খারাপও লাগত।