বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নানামুখী রাজনৈতিক তৎপরতা ও পশ্চিমাদের সমর্থন হাসিলের চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগেও একটা মমতাজ ছিল, এখন জামায়াতেও একটা আসছে।”

মমতাজের সঙ্গে তুলনা ও সমালোচনা স্ট্যাটাসে রফিকুল ইসলাম মাদানী লেখেন, “পার্থক্য হলো—আওয়ামী লীগেরটা খোলামেলা, সে বাউল শিল্পী, তার কাজও সরাসরি... আর এটা হিজাব পরে ইসলামের নামে ধোঁকা দিয়ে সবকিছু ফাটাইলতাছে, ছিঁড়ালতাছে, ইসলামের ক্ষতি করতাছে! ঐ মমতাজও সংসদে সবজান্তা মাতব্বরের মতো সিহাহ সিত্তাহর হাদিস কউত, এটাও সবজান্তা হাদিস বলে! ভাবসাবও সেইম!”

পশ্চিমাদের খুশি করার কৌশল জামায়াত পশ্চিমাদের কাছ থেকে ক্ষমতায় আসার আশায় দেশের ইসলামপন্থীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে উল্লেখ করে মাদানী লেখেন, এরা মনে করছে আওয়ামী লীগের অধ্যায় শেষ এবং বিএনপি বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে। আগামীতে বাঙালি টানা দুই মেয়াদে কাউকে ভোট দেবে না ভেবে জামায়াত ধরে নিয়েছে পরবর্তী মেয়াদে তাদের ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লিখেন, পশ্চিমারা যাতে জামায়াতকে উগ্র ইসলামপন্থী না ভেবে আটকে না দেয়, সেজন্য নিজেদের প্রমাণ করতে জামায়াত আল্ট্রা-প্রো-ম্যাক্স স্টাইলে সেক্যুলার সাজছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের হাফ প্যান্ট পরে বাস্কেটবল খেলার আয়োজন এবং ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেও জামায়াতের নারী সংসদ সদস্যকে দিয়ে পুরস্কার বিতরণের বিষয়টি তুলে ধরে একে ইসলামের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন।

হুঁশিয়ারি ও সাঈদীর স্মৃতি স্মরণ জামায়াত-শিবিরের প্রতি নিজের অতীত সহানুভূতি স্মরণের পাশাপাশি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মাদানী বলেন, বিপদের দিনে পাশে থাকায় জামায়াতের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সহানুভূতি ছিল। তবে এভাবে পশ্চিমাদের খুশি করতে গিয়ে ইসলামপন্থীদের চ্যালেঞ্জ করা হলে তিনি কঠোর প্রতিরোধে নামবেন।

মাদানী লেখেন, “আমাকে মেরে ফেলা না হলে, আমি একা বিরোধিতায় লাগলে লোড নিতে পারবেন না, পাগল হয়ে যাবেন!” স্ট্যাটাসের শেষে আল্লামা সাঈদী (র.)-এর রক্তের বিনিময়ে গড়ে ওঠা দলটিকে আর নিচে না নামানোর জন্য জামায়াত নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান তিনি।

প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত রফিকুল ইসলাম মাদানীর ওই ফেসবুক পোস্টে সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি রিয়্যাকশন পড়েছে।