নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় বিয়েবাড়ির যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চার যাত্রীর সন্ধানে দ্বিতীয় দিনের মতো ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের উদ্ধার অভিযান চলছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উদ্ধার অভিযানের সার্বিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪ জন যাত্রী গরু-ছাগলসহ একটি ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হারিয়া এলাকায় সাজিয়া আক্তার (১৯) ও শিশিরের বিয়েতে যোগ দিতে রওনা দেন। পথিমধ্যে বিকেল আনুমানিক ২টার দিকে ট্রলারটি সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে মেঘনা নদীতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা 'আমান কোম্পানি'র একটি যাত্রীবাহী ট্রলার দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে ঘটনাস্থল থেকে রায়েসা বেগম (৪০) নামে এক নারীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই চারজন যাত্রী নিখোঁজ থাকেন। খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে রাতের অন্ধকার নেমে আসায় বৃহস্পতিবার রাতে সাময়িকভাবে অভিযান স্থগিত করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, "গত রাতে উদ্ধার কাজ স্থগিত রাখার পর আজ শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে আমাদের উদ্ধারকারী দল পুনরায় নদীতে নামেন। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের তিনজন পেশাদার ডুবুরি নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত নতুন কারও সন্ধান মেলেনি।"
নিখোঁজ চারজন হলেন— হেলাল উদ্দিন (৫৫), সজীব (২৪), সামিয়া (১৭) এবং শিশু সামিন (৫)। তাঁরা সবাই কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা। তারা ট্রলারে চড়ে হোমনা থেকে বৈদ্যেরবাজারের দিকে আসছিলেন।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত ঘটনা প্রসঙ্গে জানান, "দুর্ঘটনার পর গত রাত থেকেই ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একটি এবং কোস্টগার্ডের দুটি উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।"