ব্যাট হাতে মাঠে নেমেই পরপর দুটি আগ্রাসী শট ড্যারেন স্যামির। রানিং বিটুইন দ্য উইকেটেও সেই চিরচেনা ক্ষিপ্রতা। দেখে বোঝার উপায় নেই, ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ড্যারেন স্যামি। খেলোয়াড়ি জীবনে ব্যাট হাতে যিনি প্রতিপক্ষের মনে আতঙ্ক ছড়াতেন, বয়সের এই পর্যায়েও তাঁর ব্যাটিংয়ে সেই আগ্রাসনের ছাপ স্পষ্ট। ক্রিকেটার থেকে কোচ হয়েছেন, বদলেছে ২২ গজের দায়িত্ব; তবে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা কিংবা ব্যাট হাতে খেলার ক্ষুধা কোনোটাই কমেনি এই ক্যারিবীয় কিংবদন্তির। এই খেলাটি তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যায় এই ম্যাচের জন্য আজ তিনি কী করেছেন সেটা জানলে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটের বড় জয় তুলে নিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই জয়ের আনন্দকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে ম্যাচের আগের দিন নিজেদের মধ্যে এক প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করেন ক্যারিবীয় দলের কোচিং স্টাফরা। শুধু ক্রিকেট খেলার জন্য আজ বন্ধ রাখা হয় বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের আগের অনুশীলন। দুই দলে ভাগ হয়ে পাঁচ ওভারের সেই ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমেই নিজের আগ্রাসী রূপ দেখান প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। কোচিংয়ের ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে কিছুক্ষণের জন্য যেন ফিরে যান নিজের চেনা রূপে।

বিশ্ব ক্রিকেটে ড্যারেন স্যামি এমন এক নাম, যাঁর অর্জনের খাতায় রয়েছে দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস। তাঁর নেতৃত্বেই ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর ঠিক ৪ বছর পর, ২০১৬ সালেও তাঁর নেতৃত্বে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ক্যারিবীয়রা। খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি।

১ দিন বাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেটের মাঠে দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আর সেই টেস্টকে সামনে রেখে আজ প্রেস কনফারেন্সে হাজির হয়েছিলেন স্যামি। তবে ম্যাচের আগের দিনটি বিশ্রামে রাখা হয়েছিল ক্রিকেটারদের। খেলোয়াড়দের বিশ্রামের এই দিনটিকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে উইন্ডিজ দলের কোচিং স্টাফরা। তারা দু-দলে বিভক্ত হয়ে নেমে পড়ে মাঠের লড়াইয়ে, যেখানে দর্শক থেকে শুরু করে উপস্থিত সব সাংবাদিকের নজর ছিল ড্যারেন স্যামির দিকে।

তবে প্যাড পরে স্যামির মাঠে নামার চেয়েও বেশি নজর কাড়ে অন্য একটি বিষয়। ডাগআউটে বসে তিনি যেভাবে সতীর্থদের উৎসাহ দিচ্ছিলেন, তা যেকোনো ব্যাটারকে বড় ইনিংস খেলার প্রেরণা জোগাবে। সেই সঙ্গে মাঠে তাঁর আগ্রাসনও নজরে আসে সবার। মাঠে নামার পরপরই প্রথম বলেই স্যামির বড় হিট! এর পরের বলে বলটি উড়িয়ে মারলেন লং-অনের দিকে। তবে দুর্ভাগ্যবশত তা বাউন্ডারি লাইনের কাছে ফিল্ডারের তালুবন্দি হলে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় স্যামিকে। তবে সিলেটের মাঠে তাঁর এমন আগ্রাসী ব্যাটিং আবারও প্রমাণ করে বয়স ফুরিয়ে গেলেও এখনো ফুরিয়ে যাননি স্যামি। তাঁর রানিং বিটুইন দ্য উইকেট এবং মাঠের আগ্রাসী রূপ দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন আরও কয়েক বছর নেতৃত্ব দিতে পারবেন ক্যারিবীয় দলকে; প্রয়োজন হলে দেশের স্বার্থে আবারও জ্বলে উঠতে পারবেন মাঠের ২২ গজে।