ঢাকা টেস্টের হতাশা পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন এবার সিলেটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে আগামীকাল মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় আলোচনা একাদশ নিয়ে। প্রথম টেস্টে আট উইকেটের হার, ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব - সব মিলিয়ে একাদশ সাজাতে বাড়তি ভাবনা করতেই হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। 

চিন্তা-ভাবনার প্রথমেই থাকবে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে। আর আশার বানি হচ্ছে আঙুলের চোট কাটিয়ে  সিলেট টেস্টের আগে ফিট হয়ে উঠেছেন দলের অন্যতম ব্যাটিং ভরসা মুশিফিকুর রহিম। অন্যদিকে, মাথায় আঘাতজনিত কনকাশন প্রোটোকলের কারণে সিলেটে খেলা হচ্ছে না মুমিনুল হকের। তাঁর পরিবর্তে স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন অমিত হাসান। তবে মুশফিক ফিরলে তাঁর একাদশে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে আবারও স্কোয়াডে ডাক পেয়ে বেঞ্চে বসেই আরেকটা টেস্ট কাটাবেন অমিত, এমন সম্ভাবনাই বেশি। 

ব্যাটিং অর্ডারে খুব বেশি রদবদলের সম্ভাবনা নেই। ওপেনিংয়ে থাকতে পারেন শাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করা শাদমানের সঙ্গে তানজিদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরুর দিকে বাংলাদেশকে এগিয়ে দিতে পারে। তিন নম্বরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, চার নম্বরে মুশফিকুর রহিম এবং পাঁচে তাওহীদ হৃদয়ের খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। সাথে উইকেটের পেছনে থাকার কথা লিটন দাসের। 

তবে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বোলিং বিভাগে। মিরপুরে স্পিননির্ভর পরিকল্পনা কাজে না আসায় এবার পেসারদের ওপর বাড়তি আস্থা রাখতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। সিলেটের উইকেটে শুরুতে পেস ও বাউন্স পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তাসকিন আহমেদ কিংবা স্থানীয় ছেলে এবাদত হোসেনের মধ্যে একজনের একাদশে ফেরার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলামের জায়গাও অনেকটাই নিশ্চিত বোলেই ধারণা। অর্থাৎ একাদশে পেস আক্রমণে তিনজনকে দেখা যেতে পারে।

আর স্পিন বিভাগে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তাইজুল ইসলামকে ঘিরে। শেষ চার টেস্টে মাত্র পাঁচ উইকেট পাওয়া এই বাঁহাতি স্পিনারের ফর্ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কোচ ফিল সিমন্সও। সেক্ষেত্রে মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের সঙ্গে তিন পেসার খেলানোর পরিকল্পনা হতে পারে। তবে শেষ মুহূর্তে তাইজুলকে নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।