একজন খেলোয়াড়ের বিদায়, আর তাতেই কি কেঁপে উঠতে পারে একটি দেশের ফুটবল অর্থনীতি? লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের শেষের পর এখন সামনে উঠছে সেই প্রশ্নই। আলোচনায় আসছে শত শত কোটি টাকার বাণিজ্যিক ধাক্কার আশঙ্কা। তাহলে মেসিকে হারিয়ে সত্যিই কি বিপাকে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন?
দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ছিলেন লিওনেল মেসি। পথটা শুরু হয়েছিল সংশয় দিয়ে, শেষ হলো বিশ্বকাপ, দুই কোপা আমেরিকা আর অগণিত রেকর্ডের মুকুটে। জাতীয় দলের হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল, সংখ্যাগুলোই বলে দেয়, মেসি শুধু একজন অধিনায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবল ব্র্যান্ডের সবচেয়ে বড় মুখ।
আর সেই মুখটিই সরে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে অর্থনীতির অঙ্কে। গত কয়েক বছরে মেসির উপস্থিতিকে ঘিরে আর্জেন্টিনার ফুটবল ব্র্যান্ডের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। তথ্য বলছে, মাত্র নয় বছরে আর্জেন্টিনা ফুটবল এ্যাসোসিয়েশনের স্পনসর সংখ্যা পাঁচ থেকে বেড়ে ১২০-এর বেশি হয়েছে, আর ২০২৬ বিশ্বকাপেই এসেছে ছয়টি নতুন স্পনসর চুক্তি। অর্থাৎ মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি মেসির যুগে একের পর এক বাণিজ্যিক দরজাও খুলেছে ।
কিন্তু এবার সেই সাফল্যের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাই সামনে এসেছে। মেসি বিদায় নিয়েছেন, অথচ তাঁর ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক মূল্য এখনো আকাশচুম্বী। বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, জাতীয় দল থেকে অবসর মানেই মেসির বাণিজ্যিক প্রভাব শেষ হয়ে যাওয়া নয় - বরং তাঁর ব্র্যান্ড এখন খেলোয়াড়ের পরিচয় ছাড়িয়ে বৈশ্বিক এক কিংবদন্তির পরিচয়ে পরিণত হয়েছে।
তবে ধাক্কাটা কোথায়? আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে, মেসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া সেই বিপুল দর্শক-আকর্ষণ, স্পনসরশিপের আবেদন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের আগ্রহ কতটা ধরে রাখা যায় সেই দিকে। কারণ মেসির যুগে আর্জেন্টিনা ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন যে বাণিজ্যিক উচ্চতায় উঠেছে, সেই গতি বজায় রাখতে এখন নতুন তারকা, নতুন গল্প এবং নতুন ব্র্যান্ডিং কৌশল প্রয়োজন।
তবে একটি বিষয় নিশ্চিত - মেসির বিদায় শুধু একটি জার্সির ১০ নম্বরকে খালি করেনি, বদলে দিয়েছে আর্জেন্টিনার ফুটবলের একটি পুরো যুগ। বিশ্বকাপ জয়ের পর যে দলটি মাঠের সাফল্যকে বাণিজ্যিক শক্তিতে রূপ দিয়েছিল, এবার তাদের সেই সাফল্যকে মেসি-পরবর্তী যুগেও ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ।
মেসির বিদায়ের পর থেকে যাবে এমন এক উত্তরাধিকার - যার মূল্য শুধু ট্রফি কিংবা গোলের সংখ্যায় মাপা যায় না। এখন দেখার বিষয়, তাঁর অনুপস্থিতিতেও আর্জেন্টিনার ফুটবল বোর্ড সেই সোনালি বাণিজ্যিক অধ্যায় কতটা উজ্জ্বল রাখতে পারে।