একই সময়ে বিশ্বের দুটি দেশে জাতীয় দলের পাশাপাশি জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটারদের নিয়ে চারটি ভিন্নধর্মী সিরিজ আয়োজন করেছিল বিসিবি। টাইগার জাতীয় দল যখন লড়ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে, ঠিক সেই সময় অজিদের মাটিতেই ব্যাট-বলের লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা। যেখানে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া কয়েকটি ক্লাব এবং নিউজিল্যান্ড- এ দলের বিপক্ষে। অপরদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে সাদা পোশাকে মাঠে নেমেছিলেন বাংলাদেশ -এ দলের ক্রিকেটাররা। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এতগুলো সিরিজ একই সময়ে আয়োজনের পেছনের কারণটাই বা কী? আর বিসিবি এখান থেকে পেলোটাই বা কী? সিরিজ জয়-পরাজয়ের সব আলোচনাকে ছাপিয়ে চার দলের এই ব্যস্ত ক্রিকেটীয় আয়োজনে সবচেয়ে বেশি আলো কেড়ে নিয়েছেন তাওহীদ হৃদয় ও টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে নজর কাড়া মোহাম্মদ রুবেল। হৃদয়, যিনি প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে সাদা পোশাকে ছুঁয়েছেন ৩৫০ রানের মাইলফলক। অন্যদিকে জাতীয় দলে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা মোহাম্মদ রুবেল এবার প্রায় ৩০ বছর বয়সে জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছেন। এক ম্যাচে ফাইফার সহ তিনি তুলে নিয়েছেন মোট ২৩ টি উইকেট।

মূলত জাতীয় দলের পাইপলাইন শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত ক্রিকেটার তৈরি করাই ছিল বিসিবির এই বহুমুখী আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের মধ্যে রেখে তাদের সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে এসব সিরিজ। ফলে জাতীয় দলের জন্য বিকল্প ক্রিকেটার তৈরি করার কাজটাও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বিসিবি।শুধু তরুণদের সুযোগ দেওয়াই নয়, এই সিরিজগুলো ছিল নির্বাচকদের জন্যও নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যাচাইয়ের বড় মঞ্চ। কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চাপ সামলাতে পারবেন, কার মধ্যে ধারাবাহিকতা আছে কিংবা কে জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছেন এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সুযোগ মিলেছে এখানে। একি সাথে বিভিন্ন সিরিজের মধ্যে দিয়ে যাচাই বাছাই করা হয়েছে মোট ৬৩ জন ক্রিকেটারকে। বিশেষ করে তাওহীদ হৃদয়ের মতো ক্রিকেটার যিনি রঙিন পোশাকে ধারাবাহিম পারফরম্যান্স করলেও ছিলেন না সাদা পোশাকের খেলাতে তবে তার এমন পারফরম্যান্স বিসিবিকে বাধ্য করবে তাকে দলে ভেড়াতে। এতে জাতীয় দলে যেমন বাড়বে আত্মবিশ্বাস ,তেমনি মোহাম্মদ রুবেলের মতো অপেক্ষমাণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সও জাতীয় দলের নির্বাচকদের ভাবতে বাধ্য করবে।

সব মিলিয়ে একই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে চারটি সিরিজ আয়োজনকে বিসিবির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। জাতীয় দল যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত, তখন দলের বাইরের ক্রিকেটারদের বসিয়ে না রেখে তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিকল্প মঞ্চ। আর সেখান থেকেই উঠে আসতে পারে ভবিষ্যতের টাইগারদের নাম। এখন দেখার বিষয়, এই ব্যস্ত ক্রিকেটীয় সূচি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা আর পারফরম্যান্সকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলের পাইপলাইন কতটা শক্তিশালী করতে পারে বিসিবি।