জমির সুস্থতা নিশ্চিত করতে কৃষকদের হাতে উঠছে নতুন এক পরিচয়পত্র - মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড। কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম। লক্ষ্য, কৃষকের জমিতে সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং অপচয় কমিয়ে আনা।
কৃষি বিভাগের এই উদ্যোগে প্রতিটি কৃষকের সার ব্যবহারের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে কার্ডে। কোন কৃষক কখন, কতটুকু এবং কোন ধরনের সার নিয়েছেন - থাকবে তার পূর্ণ হিসাব। এতে একদিকে যেমন সার বিতরণে স্বচ্ছতা আসবে, অন্যদিকে জমির প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টি ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।
প্রাথমিকভাবে কুড়িগ্রামের নয় উপজেলার মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চিলমারী উপজেলায় শুরু হয়েছে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এই বিশেষ কার্ড। পর্যায়ক্রমে জেলার সব উপজেলার কৃষকদের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কৃষি বিভাগের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামে আবাদ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমি। জেলায় নিবন্ধিত কৃষকের সংখ্যা ৫ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি। বিপুল সংখ্যক কৃষকের সার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।
তবে নতুন এই ব্যবস্থাকে ঘিরে কৃষকদের মধ্যে যেমন রয়েছে আশা, তেমনি আছে কিছু ভোগান্তির কথাও। অনেক কৃষক বলছেন, কার্ড সংগ্রহ করতে কৃষি অফিসে যেতে হয়েছে, বেড়েছে সময় ও যাতায়াত খরচ। আবার কার্ড হাতে পেয়েও কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, প্রয়োজনের সময় ডিলারদের কাছ থেকে সার মিলছে না।
চিলমারীর কৃষকদের দাবি, কার্ড যদি দ্রুত সার পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় সহায়তা হবে। কারণ আমন মৌসুমে সময়মতো সার না পেলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তারা। তাই কার্ডের পাশাপাশি সার সরবরাহ ব্যবস্থাও কার্যকর করার দাবি কৃষকদের।
কৃষি বিভাগ বলছে, অক্টোবর থেকে এই কার্ডের মাধ্যমে সার বিতরণের তথ্য নিয়মিত সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে জেলার সব কৃষকের হাতে পৌঁছে যাবে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড। কৃষকের জমি, খরচ আর উৎপাদন - তিন ক্ষেত্রেই নতুন এই উদ্যোগ ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
সার নিতে আর থাকবে না অনিয়ম, কুড়িগ্রামে কৃষকের হাতে বিশেষ কার্ড
মন্তব্য
প্রথম মন্তব্যটি করুন।