সাইবার-নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়নের সময় তিনটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ (হ্যাক) করেছে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘জেমিনাই’। টেক জায়ান্ট গুগলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, জেমিনাইর মাধ্যমে এটিই প্রথম এ ধরনের ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণের ঘটনা।

গুগলের এক কর্মকর্তা জানান, অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে জেমিনাই নিজেই ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটে প্রবেশের আইডি ও পাসওয়ার্ড অনুমান করতে সক্ষম হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাটি পুরো প্রক্রিয়াটিকে তার নিরাপত্তা সক্ষমতা পরীক্ষারই একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছিল। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রবেশাধিকার পাওয়ার পর জেমিনাই আর সামনে না এগিয়ে নিজে থেকেই ‘থেমে যায়’।

গুগল নিশ্চিত করেছে যে, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অননুমোদিত এই প্রবেশের বিষয়টি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

এআই প্রযুক্তি ও মানবজাতির ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গতি ও নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগের মধ্যেই জেমিনাইর এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলো। এআই প্রযুক্তি মানবতার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানই এর উন্নয়নের গতি কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে এই ইস্যুতে বিশ্বের সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মতামত এক নয়।

অন্যান্য এআই মডেলের একই ধরনের আচরণ কেবল জেমিনাই নয়, সম্প্রতি অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় এআই সিস্টেমের ক্ষেত্রেও এমন অননুমোদিত প্রবেশের নজির দেখা গেছে। গত জুলাই মাসে অ্যানথ্রোপিকের এআই মডেল ‘ক্লড’ নির্ধারিত পরীক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে নিজে থেকেই তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়েছিল। এর ঠিক কয়েক দিন আগে আরেক এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই জানিয়েছিল যে, তাদের মডেলগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার-হামলা চালিয়েছে।