যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেহরানে লাখো মানুষের সমাবেশ, নতুন 'সামরিক প্রশিক্ষণে' লাখ লাখ স্বেচ্ছাসেবী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত সরকার আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে অংশ নিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। সমাবেশ থেকে দেশকে রক্ষায় অস্ত্র তুলে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ফের সরাসরি যুদ্ধে নামার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)-র তথ্যমতে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তেহরানের রাজপথে তিন লাখের বেশি মানুষ সমবেত হন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও কমান্ডাররা।

জানফাদায়ে ইরান' কর্মসূচি ও সামরিক প্রশিক্ষণ

দেশটি রক্ষা ও প্রতিরক্ষার স্বার্থে ইরান সরকার ‘জানফাদায়ে ইরান’ (ফারসি শব্দগুচ্ছের অর্থ: ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গকারী’) নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে। এর আওতায় সাধারণ স্বেচ্ছাসেবীদের অ্যাসল্ট রাইফেল চালনাসহ প্রাথমিক ও সীমিত সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

ইরানের ইসলামি রিভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) তেহরান শাখার প্রধান জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই ছয় লাখের বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নাম নিবন্ধন করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রশিক্ষিত এই স্বেচ্ছাসেবীরা শক্তিশালী রিভল্যুশনারি গার্ড ও বাসিজ বাহিনীর সহযোগী হিসেবে দেশের নিরাপত্তায় কাজ করবেন।

শত্রুদের জন্য 'দুঃস্বপ্ন' হওয়ার হুঁশিয়ারি

সমাবেশ শুরুর প্রাক্কালে বাসিজ বাহিনীর নতুন প্রধান হোসেইন তাইয়েব ঘোষণা করেন, যেকোনো পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবীরা প্রস্তুত থাকবে। শিগগিরই দেশটির অন্যান্য প্রধান শহরেও এই ধরনের প্রশিক্ষণ ও সমাবেশের আয়োজন করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই নতুন প্রশিক্ষিত বাহিনী ইরানের শত্রুদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠবে।

সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পদদলিত করেন এবং 'আমেরিকা নিপাত যাক' ও 'ইসরায়েল নিপাত যাক' স্লোগান দেন। সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে আসা মারজিয়ে আফাঘি (২৪) নামের এক নারী জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে ইরানিরা যে পিছপা হবে না, তা স্পষ্ট করতেই তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। ইতিহাসে কেউ ইরান আক্রমণ করে টিকে থাকতে পারেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন

রাজনৈতিক ঐক্যের পাশাপাশি সমাবেশে নিজেদের আধুনিক সামরিক শক্তির প্রদর্শনও করে ইরান। প্রদর্শনীতে ড্রোন এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুলে ধরা হয়। ট্রাকের ওপর স্থাপিত ভারী মেশিনগানের পাশে কৃষ্ণাঙ্গ হিজাব পরা নারী রিভল্যুশনারি গার্ড সদস্যদের পাহারা দিতে দেখা যায়।

প্রদর্শিত ড্রোনগুলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিটির ওপর ইরান পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের তৈরি হয়েছে।

সুত্রঃ কালবেলা