স্টাম্প উড়িয়ে নাহিদের বার্তা, পেছনে কোচ তালহার নিখুঁত পরিকল্পনা
ছোট রানআপ, কিন্তু বলের গতিতে যেন পুরোনো সেই ধার। অনুশীলনে একের পর এক স্টাম্প উড়িয়ে দিচ্ছেন নাহিদ রানা। ইনজুরি থেকে ফিরে নিজেকে আবারও চেনাতে শুরু করেছেন এই গতিতারকা। সামনে ব্যস্ত সূচি, তাই শুধু ফিট হয়ে ফেরাই নয় - ফিরতে হবে আগের সেই ধার নিয়েই।
আর সেই ধার ফেরানোর মিশনেই নাহিদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন তালহা জুবায়ের। রানআপ থেকে ডেলিভারি - প্রতিটি মুহূর্তে খুঁটিয়ে দেখছেন বোলিংয়ের খুঁটিনাটি। নাহিদের পুরোনো ছন্দ যেন ফিরে আসে, সেদিকেই কোচের বাড়তি নজর।শুধু চোখে দেখা নয়, ক্যামেরায় বন্দী হচ্ছে নাহিদের প্রতিটি ডেলিভারি। তালহা নিজেই ভিডিও করে রাখছেন রানার বোলিং। এরপর সেই ফুটেজ দেখিয়ে ধরিয়ে দিচ্ছেন কোথায় হচ্ছে ভুল, কোন জায়গায় আরও নিখুঁত হওয়া দরকার। অর্থাৎ অনুশীলন শেষ হলেও কাজটা থামছে না - ভিডিও বিশ্লেষণেও চলছে পরের ধাপের প্রস্তুতি।
কারণ নাহিদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র তাঁর গতি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সেই গতির ঝলক বারবার দেখা গেছে। ওয়ানডেতে তাঁর সেরা বোলিং ২১ রানে ৬ উইকেটে, আর ক্যারিয়ারে ১৫ ওয়ানডেতে শিকার ৩২ উইকেট। টেস্টেও ১২ ম্যাচে নিয়েছেন ৩৮ উইকেট।তবে গতি যতটা বড় অস্ত্র, তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাই তালহার লক্ষ্য শুধু নাহিদকে দ্রুত বল করানো নয়, দ্রুততার সঙ্গে নিখুঁততা যোগ করা। শরীরের অবস্থান, রানআপ, রিলিজ পয়েন্ট কিংবা লাইনের সামান্য বিচ্যুতি - কোনোটিই চোখ এড়াচ্ছে না কোচের।
আর নাহিদকে সেই জায়গায় ফিরিয়ে আনতে তালহা জুবায়েরের এই নিবিড় কাজটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। একজন কোচের চোখে ধরা পড়া ছোট ভুল, ভিডিওতে তার বিশ্লেষণ, এরপর মাঠে সেটি শুধরে নেওয়া - এভাবেই তৈরি হয় আরও পরিণত একজন বোলার।
নাহিদ রানা তাই শুধু পুরোনো ছন্দ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নেই, বরং ছন্দের সঙ্গে যোগ করতে চাইছেন আরও পরিণত বোলিং। সামনে যখন বাংলাদেশের জার্সিতে আরও বড় দায়িত্বের অপেক্ষা, তখন তালহা-নাহিদের এই নীরব প্রস্তুতিই হয়তো তৈরি করে দেবে আরও ধারালো এক গতির অস্ত্রকে।
মন্তব্য
প্রথম মন্তব্যটি করুন।