স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারির আবার আলোচনায় অজি ক্রিকেটে
ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এবং বিতর্কিত অধ্যায় স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারি । ২০১৮ সালে ঘটা সেই ঘটনা নিশ্চয়ই ভুলতে চাইবে না ক্রিকেটপ্রেমীরা। ১৮ সালের মার্চ মাসে কেপটাউনের নিউল্যান্ডস মাঠে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের গায়ে এক স্থায়ী কলঙ্কের দাগ লেপে দিয়েছিল। বল বিকৃতির অপরাধে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। ক্রিকেটপ্রেমীরা ভেবেছিলেন, সময়ের সাথে সাথে হয়তো সেই কালো অধ্যায়ের স্মৃতি ম্লান হয়ে গেছে। কিন্তু দীর্ঘ আট বছর পর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল যখন আবারও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে, তখন সেই পুরনো ক্ষত যেন নতুন করে সতেজ হয়ে উঠছে। আগমী মাস থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ। সেই সিরিজেরর জন্য ১৬ সদস্যের একটি শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া । এই স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্টিভ স্মিথ। কেপটাউনের সেই অভিশপ্ত ম্যাচে যিনি দলের অধিনায়ক হিসেবে মাঠ ছেড়েছিলেন, এবার তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে পা রাখছেন দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে।ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ঘোষিত এই স্কোয়াডে কেবল স্মিথই নন, আছেন ২০১৮ সালের সেই ঐতিহাসিক সফরের আরও পাঁচজন ক্রিকেটার। সেই ঘটনার সাথে সরাসরি কোনোভাবে জড়িত না থাকলেও, কলঙ্কিত সেই অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হিসেবে দলে ফিরছেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বখ্যাত চার বোলার প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড, নাথান লায়ন এবং মিচেল স্টার্ক। বর্তমান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে এই পেস ও স্পিন আক্রমণভাগ আবারও দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটারদের পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত। এই স্কোয়াডের ষষ্ঠ সারভাইভার হলেন ব্যাটার ম্যাট রেনশ, যার অন্তর্ভুক্তি এই গল্পে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। ২০১৮ সালের মূল সফরের স্কোয়াড বা প্রথম তিন টেস্টে তিনি দলে ছিলেন না। কিন্তু কেপটাউন টেস্টে কেলেঙ্কারি ফাঁসের পর যখন স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে বহিষ্কার করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, তখন জরুরি ভিত্তিতে চতুর্থ টেস্টের জন্য রেনশকে জোহানেসবার্গে উড়িয়ে আনা হয়েছিল। অপরাধীদের বিদায়ের পর শূন্যতা পূরণে আসা সেই রেনশ এবার ১৬ জনের মূল স্কোয়াডেই জায়গা করে নিয়েছেন।ক্রিকেট ইতিহাসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দলের লড়াই সবসময়ই এক বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করে। তবে এবারের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য কেবল একটি ক্রিকেট সিরিজ নয়, বরং তাদের ক্রিকেটীয় চরিত্র ও শুদ্ধতা প্রমাণের এক নতুন মঞ্চ। অতীত কলঙ্কের দাগ পুরোপুরি মুছে ফেলে কামিন্স-স্মিথরা কি পারবেন নিউল্যান্ডসের সেই দুঃস্বপ্নকে জয় করতে নাকি প্রোটিয়াদের গ্যালারি থেকে ভেসে আসা দুয়োধ্বনি আবারও মনে করিয়ে দেবে সেই বল টেম্পারিংয়ের দুঃস্মৃতিকে
মন্তব্য
প্রথম মন্তব্যটি করুন।