রাজধানীর ভাটারার সাঈদনগর এলাকায় দুটি ভবনের মাঝখানের নিচের অংশ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ছয়টার দিকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর নাম মুবতাসির ফুয়াদ নাঈম (২৩)। তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মুবতাসিরের রুমমেট মাজহারুল ইসলাম ও প্রতিবেশী ইয়াসিন আরাফাত জানান, তাঁরা একই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে মেসে থাকতেন। ভবনটির পাশেই একই মালিকের আরেকটি ভবন রয়েছে। দুটি ভবনের মধ্যে সংযোগ থাকায় এক ভবন থেকে অন্য ভবনের ফ্ল্যাটে যাতায়াত করা যায়।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে তাঁরা ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ নিচে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। পরে দুই ভবনের মাঝখানে মুবতাসিরকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ফরাজী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মেসের অন্য বাসিন্দারা জানান, ভবনের কেয়ারটেকারের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন, মুবতাসির নিজের মেসের ভবন থেকে পাশের ভবনে গিয়ে কাউকে ডাকতে গিয়েছিলেন। এ সময় পাশের ভবনের বারান্দা থেকে কোনোভাবে নিচে পড়ে গিয়ে থাকতে পারেন বলে তাঁদের ধারণা। তবে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মুবতাসিরের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
নিহত মুবতাসিরের গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুরে। তাঁর বাবা মোস্তাফিজুর রহমান একজন শিক্ষক।