ইন্টারনেট জগতে আমরা যাদের প্রতিদিন চারপাশে দেখি, তারা সবাই কিন্তু রক্ত-মাংসের মানুষ নন! অনলাইন দুনিয়ার এক বিশাল অংশ এখন শাসন করছে একটি অদৃশ্য প্রযুক্তি, যার নাম ‘বট’। সহজ ভাষায়, বট হলো এক বিশেষ ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার। এর সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হলো, মানুষের কোনো সরাসরি হাত দেওয়া ছাড়াই এটি নিজে নিজেই নির্দিষ্ট কিছু কাজ করে ফেলতে পারে। যেসব কাজ বারবার করতে হয়, মানুষের আচরণের অনুকরণে তৈরি এই প্রোগ্রামগুলো মানুষের চেয়ে শত গুণ দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে তা শেষ করতে পারে।


শুনলে অবাক হবেন, বর্তমানে গোটা ইন্টারনেটের অর্ধেকেরও বেশি ট্রাফিক বা ভিজিটর নিয়ন্ত্রণ করে এই বটগুলো! প্রতিদিন হাজার হাজার ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ করা, ওয়েবপেজে যুক্ত হওয়া কিংবা কাস্টমার কেয়ারে মানুষের প্রশ্নের চটজলদি উত্তর দেওয়ার মতো জটিল সব কাজ পর্দার আড়ালে থেকে বটেরাই সামলাচ্ছে। মানুষের যেমন নির্দিষ্ট ঠিকানা থাকে, ঠিক তেমনি ইন্টারনেটে প্রতিটি বটেরও একটি নিজস্ব আইপি অ্যাড্রেস বা ইন্টারনেট প্রটোকল ঠিকানা থাকে। এই ঠিকানার সাহায্যেই ডিজিটাল দুনিয়ায় এদের আলাদাভাবে চেনা ও শনাক্ত করা যায়।

তবে ইন্টারনেট জগতে বটের এই ভূমিকা যেন মুদ্রার ওপিঠ-এপিঠ। এর যেমন দারুণ সব ভালো দিক আছে, তেমনি আছে মারাত্মক কিছু ক্ষতি। গুগল বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনে আমরা যে সহজে তথ্য খুঁজে পাই, তার পেছনে কাজ করে উপকারী বট। আবার চ্যাটবটগুলো দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা আমাদের গ্রাহকসেবা দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, সাইবার অপরাধীরা এই প্রযুক্তিকে হাতিয়ার বানিয়ে মানুষের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করছে, স্প্যাম ছড়ানোর জন্য ইমেইল ও ফোন নম্বর চুরি করছে এবং সাইবার আক্রমণের ফাঁদ পাতছে। এক কথায়, বট আমাদের অনলাইন জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি তৈরি করেছে নতুন এক ডিজিটাল নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ।