প্রতিটা বাবা-মায়ের কাছে তাদের ছেলেমেয়েদের ছোট থেকে ছোট জিনিসটাও সব থেকে বেশি মূল্যবান। আর যদি হয় সন্তানদের বই-খাতা আর সার্টিফিকেট, তাহলে সেটা তাদের কাছে আরও বেশি মূল্যবান যা তাদের সারাজীবনের সম্পত্তির থেকেও বেশি প্রিয়। আর এমনই এক দৃশ্য দেখা গেল সিরিয়ার হোমস শহরে, যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও বই আর জ্ঞানকে বাঁচিয়ে রাখার এক অনন্য গল্পে।
২০১১ সালের অক্টোবর মাসে নিজের ছেলের বইয়ের সংগ্রহ রক্ষার জন্য এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বয়োবৃদ্ধ আবু বিলাল। তিনি বুকশেলফটি একটি দেয়াল দিয়ে পুরোপুরি সিল করে দেন। উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ ও অস্থিরতার সময় যেন মূল্যবান বই, কুরআন শিক্ষার সার্টিফিকেট এবং ছেলের অন্যান্য শিক্ষাগত নথি নষ্ট বা হারিয়ে না যায়।
এরপর কেটে যায় এক যুগেরও বেশি সময়। প্রায় ১৫ বছর ধরে দেয়ালের আড়ালেই নিরাপদে ছিল সেই বইয়ের সংগ্রহ। অবশেষে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আবু বিলাল সেই সুরক্ষামূলক দেয়ালটি সরিয়ে ফেলেন।নিজ হাতে দেয়াল ভাঙার পর আবারও সবার সামনে আসে দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে রাখা বইগুলো।যা দেখে কার বোঝার উপায় নেই এগুলো দীর্ঘ ১৫ বছর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
সেখানে ছিল ঐতিহ্যবাহী আরবি ও ইসলামি বইয়ের একটি বড় সংগ্রহ, যা শুধু একটি পরিবারের স্মৃতি নয়, বরং জ্ঞান ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যে বইগুলোকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে একসময় দেয়ালের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, প্রায় ১৫ বছর পর সেগুলোই আবার ফিরে এলো মানুষের সামনে।