একদিকে পাহাড়ি নদীর ভয়ংকর স্রোত, আর ঠিক মাঝখানে স্রোতের ধাক্কায় উল্ট হয়ে আটকে আছে একটি সাদা গাড়ি! গাড়ির ওপর বসে আছেন এক মা আর তার ছেলে । চারপাশে পানি বাড়ছে, যে কোনো মুহূর্তে গাড়িটাকে স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কেউ। ঠিক তখনই সবাইকে অবাক করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে নেমে পড়লেন এক সাধারণ মানুষ ইনাল কোজোনভ।

ঘটনাটি রাশিয়ার উত্তর ওসেটিয়ার তামিস্ক নামের একটি পাহাড়ি গ্রামে । আবুধাবিভিত্তিক ভিডিও সংবাদ সংস্থা বিআইবির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ঘটনার ভিডিও । পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি তখন এতটাই ভয়ংকর ছিল যে, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকাই কঠিন। কিন্তু গাড়ির ওপর মা আর ছেলের অবস্থা দেখে আর চুপ করে থাকতে পারেননি ইনাল। তিনি কোনো উদ্ধারকর্মী নন, তার কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণও নেই। এমনকি ছিল না কোনো লাইফ জ্যাকেট বা আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম। ছিল শুধু একটা দড়ি আর মানুষ দুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা।

এরপর ইনাল যা করলেন, সেটাই সবচেয়ে অবাক করার মতো! তীরে থাকা মানুষজন দড়ির এক মাথা শক্ত করে ধরে রাখলেন। আর অন্য মাথাটা গাড়ির সাথে বেঁধে সোজা নদীর স্রোতের মধ্যে নেমে গেলেন ইনাল। স্রোত তাকে বারবার পেছনে ঠেলে দিলেও তিনি থামেননি। অনেক কষ্টে গাড়ির কাছে পৌঁছে ছেলেটিকে নিজের কাঁধে তুলে নেন। এরপর দড়ির সাহায্যে বুকসমান পানি পেরিয়ে ছেলেটিকে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্বিতীয়বার নদীতে নেমে মাকেও দড়ির সাহায্যে নিরাপদে তীরে পৌঁছে দেন ইনাল। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষগুলো তখন রীতিমতো স্তব্ধ। যেখানে প্রবল স্রোতের কারণে কাছে যাওয়াটাই প্রায় অসম্ভব ছিল, সেখানে একজন সাধারণ প্রত্যক্ষদর্শী নিজের জীবন বাজি রেখে বাঁচালেন দুটি প্রাণ।

এই ঘটনার পর ইনাল কোজোনভকে অনেকেই সত্যিকারের ‘সুপারহিরো’ বলছেন। কারণ তার হাতে ছিল না কোনো বড় উদ্ধারকারী সরঞ্জাম, ছিল না কোনো বিশেষ পোশাক ছিল শুধু একটা দড়ি আর দুইটা জীবন বাঁচানোর ইচ্ছা। যেখানে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দলের পৌঁছাতেও সময় লাগছিল, সেখানে একজন সাধারণ মানুষ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তবে এমন ভয়ংকর স্রোতে প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা ছাড়া নামা যে অত্যন্ত বিপজ্জনক তা যেন তোয়াক্কা করেননি তিনি ।