মেসি হেডে গোল করতে পারেন না - লিওনেল মেসিকে নিয়ে সমালোচকদের মুখে এমন কথা শোনা গেছে বহুবার। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে এবার যেন সেই সমালোচনার জবাবটাই দিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। পায়ের জাদুর পাশাপাশি মাথার নিখুঁত ছোঁয়াতেও যে তিনি কতটা ভয়ংকর, তা এবার দেখিয়ে দিলেন লিও। আর সেই জবাবটা এলো এমন এক মুহূর্তে, যখন সামনে ছিল শিরোপার লড়াই। ক্যামপিওনেস কাপ ফাইনালে ইন্টার মায়ামি বনাম ক্রুজ আজুল ম্যাচের ২৪ মিনিটে ডান প্রান্ত ধরে এগিয়ে লুইস সুয়ারেজের দুর্দান্ত ক্রস, আর বক্সের ভেতর থেকে হঠাৎই ছুটে এলেন মেসি। পেছনে থাকা ডিফেন্ডার উইলার দিত্তাকে টপকে অসাধারণ উচ্চতায় উঠে হেড - বল সোজা জালে।
অবাক করার মতো বিষয়, মেসির উচ্চতা মাত্র ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। বিপরীতে তাঁকে আটকাতে থাকা দিত্তা ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি লম্বা। কিন্তু উচ্চতার এই ব্যবধানও সেদিন মেসির সামনে হয়ে উঠতে পারেনি কোনো বাধা। মুহূর্তের টাইমিং, নিখুঁত অবস্থান আর দুর্দান্ত লাফে লম্বা ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে হেডে বল জালে পাঠালেন লিও। তবে এই গোলের মাহাত্ম্য শুধু দারুণ এক হেডেই থেমে থাকেনি। গোলটি ছিল ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মেসির ১০০তম গোল। অর্থাৎ যে মাইলফলক ছুঁতে অনেক তারকার বছরের পর বছর লেগে যায়, মেসি সেটি পূর্ণ করলেন ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে - আর তাও এমন এক হেডে, যেটি তাঁর গোল করার পরিচিত ধরনগুলোর মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না।সেখানেই যেন গল্পটা আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। যে মেসিকে নিয়ে বলা হয়, তিনি ছোটখাটো গড়নের কারণে হেডে করা গোলের লড়াইয়ে পিছিয়ে - সেই মেসিই এবার আকাশে উঠে দেখালেন, উচ্চতা নয়, আসল পার্থক্য গড়ে দেয় সময়জ্ঞান আর দক্ষতা। ছোট্ট শরীরের সেই লাফেই বড় হয়ে উঠল মুহূর্তটি, আর নীরব হয়ে গেল সমালোচনার অনেক শব্দ। আর মেসির সেই গোলের পথ ধরেই শেষ পর্যন্ত শিরোপা উঠল ইন্টার মায়ামির হাতে। পরে মেসির অ্যাসিস্ট থেকে ক্যাসেমিরোর গোল, ২-০ ব্যবধানে জয় - ফাইনালের রাতে এক গোল, এক অ্যাসিস্ট এবং হাতে শিরোপা। আর মেসির ১০০তম গোলের গল্পটা হয়ে রইল আরও বিশেষ - কারণ শততম গোলটি তিনি করলেন মাথা দিয়ে, সেই মেসি, যাঁকে একসময় বলা হতো হেডে গোল করতে পারেন না।