তখন ইয়েমেনের শাসক ছিল আবরাহা। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে মক্কায় এসে কাবা ঘরে ইবাদত ও তাওয়াফ করছে। কাবার প্রতি মানুষের এই গভীর আকর্ষণ তাকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। এরপর মানুষকে মক্কা থেকে সরিয়ে অন্যদিকে আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা করেন তিনি। সেই পরিকল্পনা থেকেই ইয়েমেনের রাজধানী সানায় নির্মাণ করা হয় একটি জাঁকজমকপূর্ণ উপাসনালয়। আবরাহার উদ্দেশ্য ছিল মানুষ যেন কাবার পরিবর্তে সেখানে যায়। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে কাবার যে অবস্থান, তা এত সহজে বদলানোর ছিল না। তার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
আর তখনই আবরাহা নেন আরও ভয়ংকর সিদ্ধান্ত কাবা ধ্বংস করতে হবে। বিশাল সৈন্যবাহিনী এবং যুদ্ধের হাতি নিয়ে তিনি মক্কার দিকে অগ্রসর হন। মক্কার মানুষ বুঝতে পারেন, এই বাহিনীর সামনে দাঁড়ানোর মতো শক্তি তাদের নেই। তাই তারা পাহাড় ও গুহায় আশ্রয় নেন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করেন। এরপর মক্কার আকাশে দেখা দেয় এক অভাবনীয় দৃশ্য। কুরআনের সূরা আল-ফিলের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ আবরাহার বাহিনীর ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠান। সেই পাখিগুলো তাদের ওপর পোড়া মাটির পাথরকণা নিক্ষেপ করতে থাকে।
আর যে বাহিনী কাবা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এসেছিল, সেই বিশাল বাহিনীই শেষ পর্যন্ত ধ্বংস ও ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ইসলামি তাফসির ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় আবরাহারও ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনাই মুসলিমদের কাছে ‘আসহাবে ফিল’ নামে পরিচিত। আর সূরা আল-ফিলের এই স্মরণীয় ঘটনা যেন এক গভীর শিক্ষা বহন করে শক্তি যত বড়ই হোক, আল্লাহর ইচ্ছার সামনে কোনো শক্তিই চূড়ান্ত নয়।