হার যখন প্রায় নিশ্চিত, স্কোরবোর্ডে ৩-১, ঠিক তখনই যেন জেগে উঠল রিয়াল মাদ্রিদের চিরচেনা রূপ। শেষ মুহূর্তে মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে পুরো ম্যাচের গল্পটাই বদলে দিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। কিন্তু যে ম্যাচে রিয়ালকে মনে হচ্ছিল ছন্দহীন, সেখানে হঠাৎই যেন জ্বলে উঠল মরিনিওর দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই রোমার চাপে দিশেহারা ছিল মরিনিও। ডোনিয়েল মালেনের জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রোমা, সময়ও ফুরিয়ে আসছিল দ্রুত। ঠিক ৫৮ মিনিটে আর্দা গুলারকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণে নতুন প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টা করেন মরিনিও। এরপর বদলি হিসেবে এন্ড্রিকের আগমনও পাল্টে দেয় রিয়ালের আক্রমণের চেহারা। কিন্তু এই দুই বদলি প্লেয়ারই যে ম্যাচের শেষ সাত মিনিটে ইতিহাস লিখবেন, তা কেউ ভাবেনি।
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে রিয়ালের প্রত্যাবর্তনের প্রথম গোলটি করেন কার্লোস এস্পি, গোলের ব্যবধান কমে হয় ৩-২। এরপর মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে আবারও গুলারের কর্নার, এবার নিখুঁত হেডে গোল করে সমতা ফেরান এন্ড্রিক। ৩-১ থেকে ৩-৩ - মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় রোমার গ্যালারি, আর রিয়াল শিবিরে জেগে ওঠে জয়ের বিশ্বাস।
তবে সেই শেষ অধ্যায়ের নায়ক অ্যান্টোনিও রুডিগার, যার গোলে পূর্ণতা পায় অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। ৯০ মিনিটে গুলারের আরেকটি কর্নার থেকে দুর্দান্ত ফিনিশে জাল কাঁপান জার্মান ডিফেন্ডার। জয়সূচক গোল করেই সিজদায় লুটিয়ে পড়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রুডিগার। কিন্তু এই তিন গোলের পেছনে একজনের পায়ের জাদু বারবার ফিরে এসেছে।
তিনি আর্দা গুলার - বদলি হয়ে ম্যাচে নেমেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় তুর্কি মিডফিল্ডার। রিয়ালের শেষ তিনটি গোলই এসেছে তাঁর নেওয়া কর্নার থেকে, যার দুটিতে সরাসরি অ্যাসিস্ট পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে এন্ড্রিকও দেখিয়েছেন নিজের সামর্থ্য, এক গোলে অবদান রাখার পাশাপাশি নিজেও করেছেন সমতাসূচক গোল।
রোমার মাঠে শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের জয়ে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের শক্ত মানসিকতারও আরেকবার প্রমাণ দিল রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিযোগিতার প্রথম দুই ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে থাকল দলটি। ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও সাত মিনিটে তিন গোল - সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত রিয়াল আবারও যেন মনে করিয়ে দিল, শেষ বাঁশি বাজার আগে তাদের হার মেনে নেওয়া কতটা কঠিন।