সাফের মঞ্চে বাংলাদেশের আক্রমণে নতুন ঝলক যোগ করতে পারেন রোনান সুলিভান। আসন্ন নভেম্বরের টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে প্রবাসী এই ফরোয়ার্ডকে দলে পেতে আগ্রহী কোচ থমাস ডুলি। তবে রোনানকে ঘিরে আশার পাশাপাশি রয়েছে সময়ের হিসাবও, কারণ তিনি এখনো ব্যস্ত নিজের বিশ্ববিদ্যালয় দলের হয়ে খেলতে।
বাংলাদেশের ফুটবলে রোনানের পরিচিতি তৈরি হয়েছে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেই স্মরণীয় সাফল্য থেকেই। ভারতের বিপক্ষে স্নায়ুচাপের সেই লড়াইয়ে শেষ পেনাল্টিতে পানেনকা শটে গোল করে শিরোপা নিশ্চিত করেছিলেন রোনান। তাঁর সেই ঠান্ডা মাথার সাহসী ফিনিশিং মুগ্ধ করেছিল সমর্থকদের, বাড়িয়েছিল তরুণ ফরোয়ার্ডকে নিয়ে প্রত্যাশা।
এবার সেই প্রতিভাকেই সিনিয়র জাতীয় দলের জার্সিতে দেখতে চান ডুলি। তবে সাফের দলে রোনানকে পাওয়ার পথটা এখনো পুরোপুরি মসৃণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট জোসেফস বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে খেলার ব্যস্ততা রয়েছে তাঁর, যা জাতীয় দলের প্রস্তুতির সঙ্গে সময়ের সংঘাত তৈরি করতে পারে। তবে রোনানসহ চার প্রবাসী ফুটবলারকে দেখতে চান কোচ।
কোচের তালিকায় রয়েছেন লুই ওয়াটসন, ট্রেভর ইসলাম ও জায়ন হাকিমও। তবে তাঁদের মধ্যে রোনানের অবস্থান কিছুটা আলাদা, কারণ বাংলাদেশের পাসপোর্ট ইতিমধ্যে রয়েছে তাঁর হাতে। অনূর্ধ্ব-২০ সাফে পাকিস্তানের বিপক্ষে দূরপাল্লার ফ্রি-কিকেও গোল করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। এবার প্রশ্ন, সিনিয়র দলের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই তরুণ কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন।
সাফের আগে ডুলির পরিকল্পনা অবশ্য শুধু একজন খেলোয়াড়কে ঘিরে নয়, বরং পুরো দলকে আরও শক্তিশালী করা। আসিয়ান কাপে হতাশাজনক অভিযানের পর চার প্রবাসী ফুটবলারকে পরখ করে দেখতে চান বাংলাদেশের কোচ। লক্ষ্য, আক্রমণে ধার বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো বিকল্প তৈরি করা।
বাংলাদেশের ফুটবলে রোনানের প্রত্যাবর্তন তাই এখন শুধু একজন তরুণের দলে যোগ দেওয়ার খবর নয়। এটি অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের সাফল্যকে সিনিয়র দলের মঞ্চে কাজে লাগানোরও একটি সুযোগ। সাফে ভালো করার লক্ষ্যে ডুলি চাইছেন আরও কার্যকর আক্রমণ, আর রোনান হতে পারেন সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততা পেরিয়ে লাল-সবুজ জার্সিতে সাফের লড়াইয়ে দেখা যায় কি না এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে।