জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন, কিন্তু ম্যাচ শেষ হলো চোখের জলে। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রিয় মুখ হামজা চৌধুরীর জন্য আজ রাতটা হয়ে থাকল চরম হতাশার। পোর্টসমাউথের বিপক্ষে শেফিল্ড ইউনাইটেডের ৩-২ গোলের হার, তার ওপর বিতর্কিত লাল কার্ড - সব মিলিয়ে তোলপাড় ফুটবল অঙ্গন। মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডারকে। 

ম্যাচের ৩৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের ম্যাককুইনকে ফাউল করে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন হামজা। এরপর মাত্র ১১ মিনিট না পেরোতেই একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে আরেকটি চ্যালেঞ্জে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ৪৪ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে তাঁকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড। লাল কার্ডের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করতে করতেই মাঠ ছাড়েন হামজা, আবেগ সামলাতে না পেরে চোখেও চলে আসে জল। 

কিন্তু দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ঘটনাটিই ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়। রিপ্লেতে দেখা যায়, ম্যাককুইন হামজার পায়ের ফাঁক দিয়ে বল বের করে সামনে এগিয়ে যান। এরপর দুজনের মধ্যে সংস্পর্শ হলে মাটিতে পড়ে যান পোর্টসমাউথের এই ফুটবলার, আর সেখানেই ফাউলের সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। প্রথম হলুদ কার্ড নিয়ে বড় বিতর্ক না থাকলেও দ্বিতীয়বারের সিদ্ধান্তকে অনেকেই মনে করছেন কঠোর। 

শেফিল্ড ইউনাইটেডের কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডারও রেফারির সিদ্ধান্তে প্রকাশ করেছেন তীব্র হতাশা।  ওয়াইল্ডারের দাবি, শুরুতে নাকি হামজাকে মাঠ ছাড়তে হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রেফারি। পরে সিদ্ধান্ত বদলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোয় আরও ক্ষুব্ধ হন শেফিল্ড কোচ। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়ানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা হামজার ছিল না। 

তবে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরিয়েছিল শেফিল্ড ইউনাইটেড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৮৯ মিনিটে এবু অ্যাডামসের গোলে ৩-২ ব্যবধানে হারতে হয় তাদের। অর্থাৎ, হামজার দল লড়াইয়ে ফিরেও শেষ মুহূর্তে হার এড়াতে পারেনি, আর লাল কার্ডের কারণে বেড়েছে হতাশা। 

হামজার এই লাল কার্ড তাই কেবল একটি ম্যাচের ঘটনা নয়, আলোচনায় এসেছে রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতাও। এরই সাথে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে বহিষ্কৃত হওয়ায় পরের ম্যাচে ব্রিস্টল সিটির বিপক্ষে খেলতে পারবেন না বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার। আর এই ঘটনা হামজার মানসিকতা ও আগামী ম্যাচে দলের পরিকল্পনায় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।