বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ যে নতুন অধ্যায়ের কথা বলা হচ্ছে, তার পেছনে সবচেয়ে বড় ত্যাগটা হয়তো করেছিলেন সেই ছাত্র-জনতাই যারা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। একবার ভাবুন, যে তরুণটি সেদিন রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, তার হয়তো নিজের জন্য কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ছিল না। ছিল না ক্ষমতার কোনো স্বপ্ন। ছিল শুধু একটি বিশ্বাস দেশকে পরিবর্তন করতে হবে।আর সেই বিশ্বাস থেকেই অনেকে নিজের জীবন দিয়ে গেছেন। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান । তাই যাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এই নতুন পথ তৈরি হয়েছে, তাঁদের অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। বরং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে সেই আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর অন্যতম উপায়।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে লালমনিরহাটে শহীদ হয়েছিলেন জুবায়ের হোসেন। ৫ আগস্ট দেশের সেই কঠিন সময়ে প্রাণ হারানো জুবায়েরের পরিবার আজও বয়ে বেড়াচ্ছে সেই শূন্যতা। আর তাঁর একমাত্র বোন, দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জেসমিন আকতার, নিজেই যখন কঠিন এক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন, তখন পরিবারটির কষ্ট যেন আরও গভীর হয়ে উঠেছিল। জেসমিন আক্রান্ত ছিলেন ব্রেইন স্টেম গ্লাইওমায়। চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে। বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।একবার ভাবুন, যে মেয়েটি হয়তো ভাইকে হারানোর শোক বুকে নিয়েই নিজের জীবনটাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, সেই মেয়েটিকেই আবার লড়তে হয়েছে নিজের জীবনের জন্য। একটি পরিবারের জন্য এর চেয়ে কঠিন সময় আর কী হতে পারে?জুবায়ের ফিরে আসবেন না। তাঁর পরিবারের সেই শূন্যতাও কোনো সহায়তায় পূরণ হওয়ার নয়। কিন্তু তাঁর পরিবারের একজন সদস্য যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ অন্তত একটি বার্তা দেয় শহীদের পরিবারকে ভুলে যাওয়া হয়নি। আর এখানেই প্রধানমন্ত্রীর সেই ভরসার হাতটির গুরুত্ব। কারণ নেতৃত্বের দায়িত্ব শুধু একজন মানুষ বেঁচে থাকা পর্যন্ত নয়।একজন শহীদের পরিবারের দরজায় গিয়ে যখন বলা হয়, ‘আপনারা একা নন’ আমরা সাথে আছি সেই কথাটাই অনেক সময় ভেঙে পড়া একটি পরিবারকে আবার শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর সাহস দেয়।শহীদ জুবায়েরের আত্মত্যাগ স্মরণে থাকবে। আর তাঁর একমাত্র বোন জেসমিনের সুস্থ হয়ে ওঠার এই লড়াইও যেন একটি বার্তা হয়ে থাকে দেশের জন্য যারা হারিয়ে গেছেন, তাঁদের পরিবারকে আমাদের এই ভরসার হাত কখনো সরিয়ে নেওয়া যাবে না।ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত জেসমিন পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী।
Comments
Be the first to comment.