ঢাকার সাভারে গ্রিল ওয়ার্কশপের এক ব্যবসায়ীকে কাজের অর্ডার দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে চোখ বেঁধে অপহরণ, মারধর এবং এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকার ওই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর নাম মো. রবিউল ইসলাম।
এ ঘটনায় রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে সাভারের বাইশমাইল এলাকায় এই অপহরণের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ ও মুক্তিপণ আদায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোন করে রবিউলকে কাজের অর্ডার সংক্রান্ত আলোচনার জন্য আশুলিয়ার ঘোড়াপীর মাজার সংলগ্ন এলাকায় ডাকেন। রাত ৯টার দিকে তিনি মোটরসাইকেলযোগে রওনা হন। কিন্তু বাইশমাইল এলাকার এক নির্জন স্থানে পৌঁছালে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। সন্ত্রাসীরা তাঁর চোখ বেঁধে মোটরসাইকেল, দুটি মুঠোফোন, নগদ ৩ হাজার টাকা ও কাগজপত্রসহ মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে একটি পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে গিয়ে রবিউলকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং তাঁরই মুঠোফোন থেকে সহকর্মী ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেনকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। কৌশল অবলম্বন করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে নয়ারহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে এক রিকশাচালকের মাধ্যমে আনোয়ারের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা আদায় করে চক্রটি। তবে টাকার উৎস অনুসন্ধানের চেষ্টা করায় রবিউলকে পুনরায় পিটিয়ে জখম করা হয়।
জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি ও মুক্তি টাকা আদায়ের পর ভোররাতে রবিউলকে দিয়ে ‘অপহরণের ঘটনা ঘটেনি’ মর্মে জোরপূর্বক একটি মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হয় এবং খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখা হয়। এরপর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অপহরণের স্থানে ফিরিয়ে এনে হাত খুলে দিয়ে পেছনের দিকে না তাকানোর নির্দেশ দিয়ে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা।
বাসায় ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানালে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ধামরাই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া এ প্রসঙ্গে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।