এমএলএস - এর মঞ্চে লেভানডস্কি বনাম মেসি - শুরুতেই গোলের ঝলক, আর শেষটা হলো উত্তাপ আর ধাক্কাধাক্কিতে। বার্সেলোনা ছেড়ে আমেরিকায় পা রাখার পর যেন পুরোনো ধারেই ফিরেছেন রবার্ট লেভানডস্কি। মেসির ইন্টার মায়ামির বিপক্ষে নিখুঁত ফিনিশে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন পোলিশ তারকা। কিন্তু ম্যাচের গল্প যে শুধু গোলেই থামছে না, তার আভাস তখনই মিলেছিল। লেভানডস্কির গোলের পর ম্যাচের উত্তাপ বাড়তে থাকে ধীরে ধীরে। আর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জবাব দেয় ইন্টার মায়ামি। লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন ক্যাসেমিরো। ৪৮ মিনিটের সেই গোলেই ম্যাচে ফেরে মায়ামি। আর এই গোলের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার - অসাধারণ এক গোল-রানে আছেন তিনি।

তবে গোলের সমতা ফিরলেও শান্তি ফেরেনি মাঠে। বরং ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই যেন বেড়েছে শরীরী উত্তাপ। একদিকে লেভানডস্কি, অন্যদিকে মায়ামির আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল - দুজনের দ্বৈরথ শেষদিকে রীতিমতো আগুন ছড়ায়। কথার লড়াই, ধাক্কাধাক্কি - ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোতে ফুটবলের চেয়ে উত্তেজনাই হয়ে ওঠে বড় গল্প। আর এখানেই যেন নতুন করে আলোচনায় এলো মায়ামির আর্জেন্টাইন তারকা। লেভানডস্কির সঙ্গে ডি পলের উত্তপ্ত মুহূর্ত ম্যাচের শেষটা করে তোলে আরও নাটকীয়। গোলের মঞ্চে শুরু হয়েছিল লড়াই, কিন্তু শেষ বাঁশির আগে সেই লড়াই পৌঁছে যায় শরীরী সংঘাতের পর্যায়ে। যেন ফুটবল নয়, শেষ কয়েক মিনিটে মাঠে চলছিল স্নায়ুর পরীক্ষা।

অন্যদিকে ক্যাসেমিরোর গল্পটাও কম চমকপ্রদ নয়। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর গোলের খাতায় যেন হঠাৎ করেই ঝড় তুলেছেন এই ব্রাজিলিয়ান। লেভানডস্কির গোলে পিছিয়ে পড়া দলকে আবার ম্যাচে ফেরালেন তিনি, আর সেটিও টানা তৃতীয় ম্যাচে গোল করে। মেসির অ্যাসিস্ট, ক্যাসেমিরোর ফিনিশ - দুজনের বোঝাপড়াতেই মায়ামি ফিরল ম্যাচে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কেউ কাউকে হারাতে পারেনি। ১-১ গোলের ড্র-তেই শেষ হলো লেভানডস্কি-মেসির মহারণ। কিন্তু স্কোরলাইন যতটা শান্ত, ম্যাচের গল্প ততটাই উত্তপ্ত - লেভানডস্কির গোল, ক্যাসেমিরোর জবাব, মেসির অ্যাসিস্ট আর শেষে ডি পল-লেভানডস্কির ধাক্কাধাক্কি। এমএলএস-এর এই মহারণ তাই পয়েন্ট ভাগাভাগির চেয়েও বেশি কিছু - তারকাদের মঞ্চে উত্তাপের এক পূর্ণাঙ্গ ফুটবল-রাত।