বাংলাদেশের ফুটবলে বাজছে সাফের দামামা। বল পায়ে মাঠ মাতাতে প্রস্তুত হামজা জামাল শমিতরা। আর সেই প্রস্তুতির প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তা এসেছে কোচ থমাস ডুলির স্কোয়াড ঘোষণার মধ্য দিয়ে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। যেখানে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন দুই প্রবাসী ফুটবলার। পাশাপাশি দলে ফিরেছেন কাজেম শাহ। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় নতুন মুখ রোনান  সুলিভান ও মাহি খান।

যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা এই তরুণ ফরোয়ার্ড এরই মধ্যে বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রোনানের। পাকিস্তানের বিপক্ষে গোল করার পাশাপাশি ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও সফল হয়েছিলেন তিনি। এবার বয়সভিত্তিক দলের গণ্ডি পেরিয়ে সিনিয়র জাতীয় দলের স্কোয়াডে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ এসেছে তার সামনে। ফলে রোনানকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখতেই পারেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

তবে সিনিয়র দলে জায়গা পাওয়া আর আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করা এক বিষয় নয়। রোনানের সামনে তাই অপেক্ষা করছে বড় পরীক্ষা। তারুণ্য, গতি আর আক্রমণভাগে কার্যকর ভূমিকা রাখার সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দলের ফরোয়ার্ড লাইনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন তিনি। বিশেষ করে গোলের সুযোগ তৈরি এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে রোনানের ভূমিকা হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। তবে চূড়ান্ত একাদশে সুযোগ পাওয়া এবং মাঠে নিজের জায়গা করে নেওয়াই হবে তার প্রথম চ্যালেঞ্জ।

এদিকে বাংলাদেশের মাঝমাঠে  হামজা চৌধুরী অধীনে রাখা হয়েছে জামাল ভূঁইয়া ও শমিত সোমের মতো ফুটবলারদের । তাদের সঙ্গে সোহেল রানা, সোহেল রানা জুনিয়র, হৃদয়, শেখ মোরসালিন ও মিনহাজুল করিম স্বাধীনদেরও ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। বলের দখল ধরে রাখা, আক্রমণ তৈরি এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো সব ক্ষেত্রেই এই বিভাগকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবে খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা ও কৌশলের ওপর নির্ভর করবে মাঝমাঠের চূড়ান্ত বিন্যাস।

রক্ষণভাগে তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, রহমত মিয়া, তারিক রায়হান কাজী, ইসা ফয়সালদেরকে রেখেছেন কোচ। গোলবার সামলানোর দায়িত্বে রয়েছেন মিতুল মারমা, সুজন হোসেন ও মেহেদী হাসান শ্রাবণ। আর আক্রমণভাগে রোনানের সঙ্গে শেখ মোরসালিন, রাকিব হোসেন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, ফাহামিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, শুকি ইতোফুসা ও ফারহান আলী ওয়াহিদদের নিয়ে ভাবতে পারবেন ডুলি। অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের সমন্বয়ে দল সাজানোর সুযোগ থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে কারা পাবেন মূল একাদশে জায়গা।

সব মিলিয়ে সাফের আগে ২৮ সদস্যের এই স্কোয়াডে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুনদের প্রমাণের সুযোগও রেখেছেন কোচ থমাস ডুলি। হামজা-জামালদের নেতৃত্বে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণভাগের দৃঢ়তা আর ফরোয়ার্ডদের গোল করার সামর্থ্য সবকিছুর সমন্বয় ঘটাতে পারলেই সাফল্যের পথে এগোতে পারবে বাংলাদেশ। আর সেই মিশনে রোনান সুলিভানের সিনিয়র দলে অন্তর্ভুক্তি যোগ করেছে বাড়তি আগ্রহ। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে সাফল্যের পর এবার জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ছাপ রাখতে পারবেন কি এই তরুণ ফরোয়ার্ড? সেই উত্তর মিলবে সাফের মাঠেই।