ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে গত আট মাসে বড় ধরনের সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময়ে দেশটির অন্তত ৮১টি যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সামরিক সরঞ্জামের আর্থিক মূল্য আনুমানিক ৩৩০ কোটি ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা ও বিশ্লেষণধর্মী সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট প্রতিবেদনটির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সিআরএসের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ অ্যাটাক এয়ারক্রাফট।

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য প্রায় ৩ থেকে ৫ কোটি ডলার।

গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ভুলবশত নিজেদের বাহিনীর হামলায় তিনটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এসব বিমানের সম্মিলিত মূল্য ৩ কোটি ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পর এপ্রিলে ইরানের আকাশসীমায় সামরিক অভিযান চালানোর সময় আরও একটি বিমান ধ্বংস হয়।

এদিকে সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আটটি এফ-১৫ই বিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে সিআরএসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে গত ১৯ মার্চ ইরানের হামলায় একটি এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আধুনিক এই যুদ্ধবিমানের প্রতিটির মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি।

এছাড়া এপ্রিলে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ স্থল হামলার বিমান হারায় যুক্তরাষ্ট্র। সেপ্টেম্বরে জর্ডানে হামলার সময় আরও একটি এ-১০ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় সাড়ে তিন মাস পর জুনের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযান শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান শেষ হলেও পরবর্তী মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল।