ম্যাকডোনাল্ডসে বসে খাবার খাচ্ছিলেন এক তরুণ। কয়েকটি টেবিল দূরে বসা এক তরুণীর সঙ্গে কয়েকবার চোখাচোখিও হয়। তরুণীর প্রতি আগ্রহ তৈরি হলেও লাজুক স্বভাবের কারণে কথা বলার সাহস পাননি তিনি। পরে তরুণী নিজেই এগিয়ে এসে কথা বললে তিনি ভেবেছিলেন, এবার হয়তো পরিচয় হবে। কিন্তু তার বদলে তরুণী এমন এক অনুরোধ করেন, যা শুনে অবাক হয়ে যান তিনি তাকে কিছু খাবার কিনে দিতে হবে।
ঘটনাটি ২০২৬ সালের ২৭ মে রেডিটে শেয়ার করেন ওই তরুণ। পোস্টটি পরে এক হাজারের বেশি আপভোট পায়। তবে প্রতিবেদনে তাদের কারও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
তরুণ জানান, ব্যাকপ্যাক নিয়ে বসে থাকা তরুণী বেশ কয়েকবার তার দিকে তাকাচ্ছিলেন। বিষয়টি তারও ভালো লাগছিল। কিন্তু নিজেকে অন্তর্মুখী মনে করায় তিনি কোনো উদ্যোগ নেননি। একপর্যায়ে তরুণী নিজেই কাছে এসে খাবার কিনে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
কিছুটা বিস্মিত হলেও তিনি তরুণীকে নিজের পছন্দমতো খাবার নিতে বলেন। পরে তার ২৮ ডলারের বিল পরিশোধ করেন। খাবার দেওয়ার পর তরুণী তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে যান।
পরে তরুণের মনে হয়, অন্তত তার নাম বা ফোন নম্বরটি চাওয়া যেত। তবে এমন পরিস্থিতিতে নম্বর চাওয়া ঠিক হতো কি না, তা নিয়ে তার দ্বিধা ছিল। তরুণীকে নিজের সঙ্গে বসে খাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু চলে যাওয়ার সময় হয়ে যাওয়ায় আর তা সম্ভব হয়নি।
রেডিটে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তরুণ বলেন, সাধারণত বাইরে থাকলে তিনি খুব বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলেন না। সেদিন তার মোটরসাইকেলটি তরুণীর দিকে রাখা থাকায় সেদিকে তাকানো থেকেই পুরো ঘটনার শুরু।
তার কাছে ঘটনাটি ছিল অপ্রত্যাশিত হলেও মানবিক। কারও প্রয়োজনের সময়ে সাহায্য করতে পেরে তিনি খুশি হয়েছেন। অন্যকে সাহায্য করার পর নিজের মধ্যেও যে আনন্দের অনুভূতি তৈরি হয়, সেটিকে মনোবিজ্ঞানে কখনো কখনো ‘হেল্পার’স হাই’ বলা হয়।
আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের এক জরিপে ৮৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, কাউকে সাহায্য বা সদয় আচরণ করার পর তাদের ভালো লাগে। অন্যের কাছ থেকে এমন আচরণ পেলেও ভালো লাগে বলে জানিয়েছেন ৯০ শতাংশ। গত তিন মাসে কোনো না কোনোভাবে সদয় আচরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন ৯৩ শতাংশ উত্তরদাতা।
ঘটনাটি নিয়ে রেডিট ব্যবহারকারীদের মধ্যেও আলোচনা হয়। কেউ কেউ তরুণটির প্রত্যাশাহীন সাহায্যের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, বিনিময়ে কিছু পাওয়ার চেষ্টা না করে সাহায্য করাটিই ঘটনাটিকে মানবিক করে তুলেছে।
শেষ পর্যন্ত এই ঘটনা কোনো প্রেমের গল্পে রূপ নেয়নি। অচেনা একজনকে সাহায্য করার একটি ছোট্ট মুহূর্ত হিসেবেই থেকে গেছে সেটি।