বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ আরও বাড়াতে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি, উন্নত ডোনার ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএমইউর বি ব্লকের মিলন হলে ‘রেনাল ট্রান্সপ্লান্টেশন অ্যাট বিএমইউ : কারেন্ট স্কোপ, চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ফিউচার পারস্পেকটিভস ডোনার অ্যান্ড রিসিপিয়েন্ট’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের কিডনি প্রতিস্থাপনের বর্তমান চিত্র, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক, গবেষণার ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেমিনারে কিডনি প্রতিস্থাপনের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকরা ডোনার ও রিসিপিয়েন্ট ব্যবস্থাপনা, অস্ত্রোপচারে অগ্রগতি এবং প্রতিস্থাপন কার্যক্রম পরিচালনার সময় দেখা দেওয়া বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকূল ইসলাম, অধ্যাপক তৌহিদ মো. সাইফুল হোসেন এবং নেফ্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. কবির হোসেন নিজেদের গবেষণা ও অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আফজালুন্নেসা।
অধ্যাপক মো. রফিকূল ইসলামের উপস্থাপনায় কিডনি প্রতিস্থাপনের বিভিন্ন ধাপের সমস্যা এবং তা মোকাবিলার সম্ভাব্য উপায় তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে সম্প্রতি প্রথমবারের মতো সম্পন্ন হওয়া ইমোশনাল ডোনার ট্রান্সপ্লান্ট নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।
অধ্যাপক রফিক বলেন, দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের পরিধি বাড়াতে প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন পদ্ধতি চালুর প্রয়োজন রয়েছে। ইমোশনাল ডোনার ট্রান্সপ্লান্টের পাশাপাশি পেয়ার্ড ডোনার ট্রান্সপ্লান্ট চালু করা গেলে প্রতিস্থাপনের জন্য আরও বেশি রোগীকে সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।
সেমিনারে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুরে কিডনি প্রতিস্থাপনের হার নিয়ে তুলনামূলক তথ্যও উপস্থাপন করা হয়। দেশে এই চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নীতিগত সহায়তা এবং ডোনার ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন বক্তারা।
সফল কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য প্রয়াত ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক সাজিদ হাসান, ভারতের মুলজীবাই প্যাটেল ইউরোলজিক্যাল হাসপাতালের ইউরোলজিস্ট ডা. মহেশ দেসাই এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অধ্যাপক রফিক।
অনুষ্ঠানে বিএমইউর প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, প্রো-ভিসি (গবেষণা) অধ্যাপক মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এ এইচ হামিদ আহমেদসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিএমইউ ও ঢাকার বিভিন্ন চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থীরা সেমিনারে অংশ নেন। আলোচনার শেষভাগে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে আধুনিক সার্জিক্যাল পদ্ধতি, গবেষণা, ডোনার-রিসিপিয়েন্ট ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নীতিগত উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।