এশিয়া কাপে বাংলাদেশের স্কোয়াডে নেই সাইফ কেরাওয়ালা। সুদূর আমেরিকা থেকে লাল-সবুজ পতাকার টানে বাংলাদেশে পাড়ি জমানো ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই গোলকিপারকে ঘিরে দেশের মানুষের মনে যে আশা জেগেছিল, তা আর বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না। তার বাদ পড়ার কারণ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পাসপোর্টজনিত সমস্যার কথা শোনা গেলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি বাফুফে। তবে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে পাড়ি জমানো এবং বাংলাদেশে এসে অনুশীলন করার পরও কেন সাইফকে দলে নেওয়া হলো না, তা নিয়ে কৌতূহল কমছেই না ফুটবলপ্রেমীদের মনে। দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এত দূর থেকে বাংলাদেশে আসার পরও এশিয়া কাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে জায়গা না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কী কারণে শেষ মুহূর্তে মূল স্কোয়াডের বাইরে রাখা হলো এই প্রবাসী গোলকিপারকে।
বাংলাদেশ দলে হামজা চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তির পর একে একে ঢল নামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসী ফুটবলারদের, লাল-সবুজ পতাকার টানে দেশের হয়ে মাঠ মাতাতে। প্রায় ১৫-১৬ জন ফুটবলারের তালিকা জমা পড়ে বাফুফের কাছে। এর মধ্যে মাত্র ১০ জন খেলোয়াড়কে বাছাই করেন কোচ থমাস ডুলি। বাংলাদেশের মিডফিল্ড, ডিফেন্স ও ফরোয়ার্ড পজিশনে একাধিক প্রবাসী ফুটবলার পাওয়া গেলেও গোলবারের নিচে প্রবাসী ফুটবলার পাওয়াটা যেন ফাঁকাই থেকে গিয়েছিল। যেকোনো দেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ দলের অটো চয়েস হিসেবে ছিলেন মিতুল মারমা, শ্রাবণ, জিকোরা। তবে বাংলাদেশ দলে সাইফ কেরাওয়ালার অন্তর্ভুক্তির পর অনেক ফুটবলপ্রেমী ভেবেছিলেন, গোলবার সামলানোর দায়িত্বটা হয়তো এবার কোনো দক্ষ প্রবাসী ফুটবলারের হাতে উঠতে যাচ্ছে। কারণ ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার সাইফকে নিয়ে গোলবারের নিচে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছিলেন অনেকেই। প্রবাস থেকে এসে জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দেওয়ায় সেই প্রত্যাশাও আরও বেড়ে যায়।
তবে গুড়ে বালি। সব আশা, জল্পনা-কল্পনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সাইফকে দল থেকে বাদ দিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। দুই দিন আগে ট্রান্সফার মার্কেটে প্রকাশিত তালিকায় সাইফের নাম থাকলেও বাফুফে ঘোষিত ২৩ সদস্যের মূল স্কোয়াডে নেই এই প্রবাসী ফুটবলার। ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে, কোন কারণে দল থেকে বাদ দেওয়া হলো সাইফ কেরাওয়ালাকে? কারণ এর আগে তাকে নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেটি হঠাৎ করেই থেমে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল। বিশেষ করে জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলন করার পরও কেন মূল স্কোয়াডে জায়গা হলো না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার অন্যতম বিষয়।
সাইফকে নিয়ে এখন পর্যন্ত বাফুফের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসায় বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল থেকেই যাচ্ছে। পাসপোর্টজনিত জটিলতার যে আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটিই আসল কারণ কি না, তা-ও নিশ্চিত নয়। তবে দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন নিয়ে সুদূর আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে এসে অনুশীলন করার পরও এশিয়া কাপের মূল স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়ায় সাইফকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। জাতীয় দলের গোলবারে প্রবাসী কোনো ফুটবলারকে দেখার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সেটিও আপাতত বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না। ফলে সাইফের বাদ পড়ার কারণ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও আনুষ্ঠানিক তথ্য না আসা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
তবে সাইফের জন্য জাতীয় দলের দরজা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেল কি না, সেটিও এখনই বলা যাচ্ছে না। সামনে আরও আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও প্রতিযোগিতা রয়েছে। ফলে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আবারও কোচের নজরে আসার সুযোগ থাকছে এই প্রবাসী গোলকিপারের। আর বাংলাদেশও ভবিষ্যতে গোলবারের নিচে সাইফকে নিয়ে নতুন করে ভাববে কি না, সেটিও নির্ভর করবে তার পারফরম্যান্স এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ার ওপর। আপাতত এশিয়ান কাপের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি সাইফের, আর তাকে বাদ দেওয়ার প্রকৃত কারণ জানতে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে বাফুফের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য।