বাংলাদেশের ফুটবলের হয়তো এই ছবিটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে চিরকাল। কারণ প্রথমবারের মতো আসিয়ান কাপের মঞ্চে এবার প্রতিনিধিত্ব করবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আর তারই পূর্বে বাংলাদেশের মাটিতে আজ শেষ দিনের মতো অনুশীলন। শুধু তাই নয়, থমাস ডুলির অধীনে ঘোষিত স্কোয়াডে রাখা হয়েছে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী ফুটবলার। একসময় হামজা, জামাল আর তারিক কাজীরাই বাংলাদেশের ফুটবলের পরিচিত মুখ হিসেবে বিশ্বব্যাপী সাড়া পেলেও এবার জায়ান, শুকি, ফাহমিদুলদের সমন্বয়ে শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে বাফুফে।
আসন্ন আসিয়ান কাপকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই অনুশীলনে নেমে পড়েন জামাল ভূঁইয়াসহ দলের ফুটবলাররা। জয়ের লক্ষ্যেই শক্তিশালী দল নিয়ে আসিয়ান কাপের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আর গুরুত্বপূর্ণ এই মিশনের আগে শিষ্যদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চান না প্রধান কোচ থমাস ডুলি।
দিনের অনুশীলন শেষ করেই রাতে আসিয়ান কাপের ফ্লাইট ধরবে বাংলাদেশ। তাই সকালেই অনুশীলনে হাজির হন ফুটবলাররা। টিম বাস থেকে সবার আগে নামতে দেখা যায় জায়ান আহমেদকে। এরপর একে একে দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, তারিক কাজী, শেখ মোরসালিনসহ অন্যরা মাঠে প্রবেশ করেন। এ সময় সাংবাদিকদের শুভ সকাল বলে অভ্যর্থনা জানান সহকারী কোচ রেইনহার্ড কার্ল স্ট্যাম্ফ। তবে অনুশীলনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তীব্র গরম। ভোরে অনুশীলনে নামলেও গরমের প্রখরতা থেকে রেহাই মেলেনি ফুটবলারদের। ফলে কিছুটা স্বস্তি পেতে গ্যালারির নিচের ছায়ায় ওয়ার্ম-আপ করতে দেখা যায় পুরো দলকে। আর বাংলাদেশের এই তীব্র গরমকে বাংলা ভাষায় ব্যক্ত করেছেন সহকারী কোচ রেইনহার্ড।
প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও অবশ্য অনুশীলনে ছিল না কোনো শৈথিল্য। শুরুতে মাঠে নেমেই আসিয়ান কাপে প্রথমবার যাওয়ার আগে নিজেদের ফটোসেশন সেরে নেন বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররা। এরপর হালকা ওয়ার্ম-আপের পর তারা নেমে পড়েন মূল অনুশীলনে। কোচের বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলে অনুশীলনে মজার ছলে অনুশীলনে মেতে ওঠেন ফুটবলাররা। ফুটবল যে শুধু পায়ের খেলা নয়, বুদ্ধিরও খেলা আজকের অনুশীলনেই তার প্রমাণ মিলেছে। দুই দলে ভাগ হয়ে মজার এক খেলার মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেন ফুটবলাররা। একদিকে ছিল জামাল ভূঁইয়ার দল, অন্যদিকে ফাহমিদুলের দল। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও উপস্থিত বুদ্ধিতে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় জামালের দল। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, অনুশীলনের মতো কি মাঠের খেলাতেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন জামাল ভূঁইয়ারা? নাকি ব্যর্থতার স্মৃতি সঙ্গী করে তারা ফিরে আসবেন দেশের মাটিতে? প্রায় এক মাসের এই অনুশীলন সেশনে নিজেদের কতটাই বা ঝালিয়ে নিতে পেরেছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, তা দেখা যাবে ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে খেলার ৯০ মিনিটে। অনুশীলনের মাঠে শেষ পর্যন্ত জামালের দলের জয়েই আনন্দে মেতে উঠলেও আসিয়ান কাপের মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের কতটা প্রমাণ দিতে পারেন থমাসের শিষ্যরা, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।