বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা তৃতীয়বার অনুপস্থিত ইতালি। তার ওপর কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে ফুটবল ফেডারেশন সবখানেই সাম্প্রতিক সময়ে ছিল একের পর এক পরিবর্তন। ঐতিহ্যবাহী আজ্জুরিদের জন্য সময়টা যেন কাটছিল চরম অনিশ্চয়তায়। সেই অন্ধকার সময় পেছনে ফেলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন শুরু করেছে ইতালি।

দলের হাল ধরতে আবারও দায়িত্ব পেয়েছেন রবার্তো মানচিনি। আর নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। আসন্ন উয়েফা নেশন্স লিগের জন্য ৩৪ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন ইতালি কোচ, যেখানে জায়গা পেয়েছেন প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ৯ ফুটবলার।

নতুন মুখদের মধ্যে রয়েছেন ব্রেন্টফোর্ডের মাইকেল কায়োদে, মনজার এডি কুয়াদো, রোমার দানিয়েলে ঘিলার্দি, কাগলিয়ারির আলেসান্দ্রো রোমানো, স্পোর্টিংয়ের ইসা দুম্বিয়া, সাসুওলোর সেবাস্তিয়ানো এস্পোসিতো, নাপোলির আন্তোনিও ভারগারা, নুরেমবার্গের মোহামেদ আলি জোমা এবং বোলোনিয়ার গোলরক্ষক মাসিমো পেসিনা।

এ যেন পুরোনো ইতালিকে নতুন করে সাজানোর চেষ্টা। একদিকে অভিজ্ঞদের ওপর ভরসা, অন্যদিকে তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ। দীর্ঘদিন পর নিকোলো ফাজিওলি ও নিকোলো জ্যানিওলোও ফিরেছেন জাতীয় দলে। পাশাপাশি ২০২১ সালের পর প্রথমবার ডাক পেয়েছেন রোলান্দো মান্দ্রাগোরা।

তবে মানচিনির দলে নেই মাতেও রেতেগি। অন্যদিকে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যেও দলে জায়গা পেয়েছেন ড্যানিয়েল মালদিনি। কাগজে-কলমে এটি শুধু একটি স্কোয়াড ঘোষণা হলেও, ইতালির জন্য এর গুরুত্ব অনেক বেশি কারণ ব্যর্থতার ধাক্কা কাটিয়ে আবারও নিজেদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই শুরু আজ্জুরিদের।

নেশন্স লিগে ইতালির এই নতুন যাত্রা শুরু হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোয় প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর তুরস্কের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ, ২ অক্টোবর ফ্রান্সের মাঠে কঠিন পরীক্ষা এবং ৫ অক্টোবর বোলোনিয়ায় আবারও তুরস্কের মুখোমুখি হবে আজ্জুরিরা। মাত্র ১১ দিনের মধ্যে চার ম্যাচ মানচিনির নতুন ইতালির সামনে শুরুতেই অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা।

বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে এখন ইতালির লক্ষ্য একটাই হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনে আবারও ইউরোপের ফুটবল মানচিত্রে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করা। আর সেই প্রত্যাবর্তনের গল্পে কতটা আলো ছড়াতে পারবেন মানচিনি ও তাঁর নতুন প্রজন্মের আজ্জুরিরা, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।