চমক দেখিয়ে ফিফা আসিয়ান কাপের স্কোয়াড ঘোষণা বাফুফের। হামজা চৌধুরী, সাইফ কেরাওয়ালা, জিদান ইউসুফসহ আরও কয়েকজন নতুন মুখের সমন্বয়ে এই স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাফুফে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো ঘোষণা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে না দিলেও বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল ওয়েবসাইট ট্রান্সফারমার্কেট ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছে আসিয়ান কাপকে নিয়ে বাংলাদেশের ২৩ সদস্যের স্কোয়াড। প্রতিবারের ন্যায় এবারেও বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব থাকছে জামাল ভূঁইয়ার ওপর।

আগামী ২৫ তারিখ মালেয়শিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের মধ্যে দিয়ে আসিয়ান কাপে প্রথম বারের মতো যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। প্রথম বার হওয়ায় আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হামজা-জামালদের এই ম্যাচ। আসর শুরু হওয়ার প্রায় ১ মাস আগে থেকেই ক্যাম্প শুরু করে দিয়েছিলেন কোচ থমাস ডুলি। চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগে বেশ কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলেন বাংলার দামাল ছেলেরা। যেখান থেকে কয়েকটি ধাপে কোচ থমাস ফুটবলারদের বাছাই করে চূড়ান্ত স্কোয়াড প্রস্তুত করেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সেই চূড়ান্ত তালিকা বাফুফের প্রকাশ করার কথা থাকলেও ইতিমধ্যে সেই ২৩ সদস্যের দলের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ট্রান্সফারমার্কেট। যেখানে নতুন মুখ হিসেবে রয়েছে ৪ জন এবং আনিসুর রহমান জিকো, ফাহিম, ইউসুফ আহমেদসহ বাদ পড়েছেন তিনজন।

ট্রান্সফারমার্কেটের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী গোলরক্ষক সাইফ আমির কেরাওয়ালা। তার সঙ্গে নতুন করে দলে দেখা যেতে পারে জাপানপ্রবাসী শুকি ইতোফুসা, ইংল্যান্ডপ্রবাসী জিদান ইউসুফ এবং ফারহান আলী ওয়াহিদকে। এর মধ্যে ফারহানকে নিয়ে সম্প্রতি আলাদাভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কোচ থমাস ডুলি। স্ট্রাইকার সংকটের সময়ে তার গোল করার দক্ষতা দলের জন্য কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন এই কোচ।

অন্যদিকে, প্রকাশিত তালিকায় জায়গা হয়নি আগের ক্যাম্পে থাকা কয়েকজন পরিচিত মুখের। তালিকা অনুযায়ী, গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও ইউসুফ আহমেদ রয়েছেন বাদ পড়াদের তালিকায়। তবে এটিকে এখনই চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ বাফুফের পক্ষ থেকে ২৩ সদস্যের আনুষ্ঠানিক স্কোয়াড এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে আসন্ন আসিয়ান কাপ সামনে রেখে ডুলি ক্যাম্পের স্কোয়াডে একাধিক পরিবর্তন এনেছিলেন।

নতুন-পুরোনোদের এই সমন্বয়ে আসন্ন আসরে বাংলাদেশের একাদশ কেমন হয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। বিশেষ করে সাইফ কেরাওয়ালার মতো নতুন মুখদের পাশাপাশি জিদান ইউসুফ ও শুকি ইতোফুসার অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়েছে কৌতূহল। আর ফারহান আলী ওয়াহিদকে ঘিরেও রয়েছে আলাদা প্রত্যাশা। সব মিলিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই মিলবে এই নতুন কম্বিনেশনের প্রথম পরীক্ষা। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। অর্থাৎ আসরের শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে জামাল ভূঁইয়াদের। এখন বাকি শুধু বাফুফের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। ট্রান্সফারমার্কেটের প্রকাশিত তালিকা শেষ পর্যন্ত কতটা মিলে যায়, সেটিই নিশ্চিত হবে ২০ সেপ্টেম্বরে বাফুফের আনুষ্ঠানিক ঘোষনায়